ব্রণের সমস্যা

ব্রণ কি?

ব্রণ মূলত ত্বকে হয়ে থাকে যখন  চামড়া এবং তেল দিয়ে চুলের গোড়ার ছিদ্র আটকে যায়  এবং ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়ে ব্রণ হয়। তারপর ত্বক স্ফীত হতে পারে এবং লাল হয়ে যেতে পারে বা ফুলে যেতে পারে ।

ব্রণ কমাতে আমি নিজে থেকে কি করতে পারি?

হ্যাঁ. আপনার ত্বকের যত্ন আপনার ব্রণ থেকে সাহায্য করতে পারে। আপনার যা করা উচিত তা হল:

  1. আপনার মুখ দিনে দুইবারের বেশি ধোয়া যাবে না। কুশুম গরম – অনেক বেশী গরম নয় – পানি ব্যবহার করুন এবং বেশি ক্ষার সাবান ব্যবহার করবেন না। পরিবর্তে, একটি মৃদু ফেসিয়াল স্কিন ক্লিনার ব্যবহার করুন। আপনার মুখ স্ক্রাব করবেন না, কারণ এটি ব্রণকে আরও খারাপ করে দিতে পারে এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
  2. পিম্পল বাছাই করবেন না বা চেপে ধরবেন না। এটি ব্রণকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এতে সংক্রমণও হতে পারে।
  3. তেল-ভিত্তিক মেক-আপ এবং ত্বকের পণ্য এড়িয়ে চলুন। এগুলো ব্রণ আরও খারাপ করতে পারে। আপনি আপনার মুখের জন্য একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন 

আমি কি আমার নিজের ব্রণ চিকিৎসা করতে পারি?

আপনার যদি হালকা ব্রণ থাকে তবে আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্রণ পণ্য ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেনজয়াইল পারক্সাইড, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, অ্যাডাপালিন, বা অন্যান্য ব্রণের চিকিত্সা ধারণকারী পণ্য। যদি আপনার ব্রণ ৩ মাস পরে উন্নতি না হয়, বা আপনার যদি মাঝারি বা গুরুতর ব্রণ থাকে, তাহলে পরামর্শের জন্য আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন।

কিভাবে ব্রণ চিকিৎসা করা হয়?

চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে ব্রণের চিকিৎসা করতে পারেন। কখনও কখনও চিকিৎসকরা একবারে ১টির বেশি ওষুধ চেষ্টা করার পরামর্শ দেন।

এমন কোনো ১টি ওষুধ নেই যা সবার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। লোকেদের প্রায়শই বিভিন্ন ওষুধ চেষ্টা করতে হয় যতক্ষণ না তাদের জন্য সবচেয়ে ভাল টি খুঁজে পাওয়া যায়।

যে ওষুধগুলি আপনি সরাসরি আপনার ত্বকে লাগান – এগুলি জেল, ক্রিম বা লোশন হতে পারে৷ বিভিন্ন ধরনের আছে। কিছু উদাহরণ হল:

  1. রেটিনয়ডস
  2. অ্যাডাপালিন
  3. বেনজয়ল পারক্সাইড বা
  4.  অ্যান্টিবায়োটিক – বেনজয়েল পারক্সাইড এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্রণ কমায় ব্রণের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া মেরে।
  5. জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা স্পিরোনোল্যাকটোন –

অন্যান্য চিকিৎসা 

অন্যান্য ধরণের চিকিত্সার উদাহরণ যা ব্রণ আক্রান্ত কিছু লোককে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে বিশেষ আলো বা লেজার চিকিত্সা।

যদি আমি গর্ভবতী হতে চাই?

আপনি যদি গর্ভবতী হতে চান তবে গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক ওষুধই ক্রমবর্ধমান শিশুর জন্য নিরাপদ নয়।

আমার খাদ্য আমার ব্রণ প্রভাবিত করবে?

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রচুর দুধ পান করেন তাদের মধ্যে ব্রণ বেশি দেখা যায়। খাবার এবং ব্রণের মধ্যে যোগসূত্র বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ব্রণ (ফ্লার আপ) তীব্রতর হওয়ার কিছু কারণ :

ব্রণের সঠিক কারণ অজানা, তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণ এটিকে ছড়িয়ে দিতে পারে।

  1. বয়ঃসন্ধিকালীন মেয়েদের এবং প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের মাসিক শুরু হওয়ার 2 থেকে 7 দিন আগে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন এর কারনে।
  2. ত্বকের পণ্য (ময়শ্চারাইজার বা প্রসাধনী) থেকে তেল বা কাজের পরিবেশে (উদাহরণস্বরূপ, রান্নাঘর)
  3. স্পোর্টস হেলমেট বা সরঞ্জাম, ব্যাকপ্যাক, টাইট কলার বা টাইট স্পোর্টস ইউনিফর্ম থেকে চাপ এর কারনে।
  4. ত্বকের ক্ষতি , যেমন দূষণ এবং উচ্চ আর্দ্রতা
  5. ব্রণে প্রিক করা বা চাপ দেয়া।
  6. ত্বকের শক্ত ভাবে ঘষামাজা করা
  7. মানসিক চাপ (স্ট্রেস)

মেয়েদের অনেক সময় হরমোনাল কারনেও ব্রণ হতে পারে।

একটা অবস্থা যেটাকে PCOS বলে বা অন্য কোনো হরমোনাল পরিবর্তনের কারণেও হতে পারে।
কন্ট্রাসেপটিভ পিল অনেক সময় এই অবস্থার উন্নতি করে থাকে।

গর্ভকালীন সময়েও অনেক সময় ব্রণ হতে পারে,হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে।প্রগনেনসি পরবর্তী সময়ে সেটা অনেকটাই ভালো হয়ে যায়।গর্ভবতী সময়ে ব্রণের ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো খাওয়া উচিত।কারণ ব্রণের অনেক ঔষধই গর্ভবতী অবস্থায় খাওয়া নিষেধ।

ডা:মো :আলী হোসাইন
এমবিবিএস,বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিস (মেডিসিন) (শেষ পর্ব)
এমআরসিপি (ইউকে)পেসেস